Home শিল্প ও সাহিত্য মোনালিসার হাসি: রহস্যময় রঙিন বিশ্লেষণ!

মোনালিসার হাসি: রহস্যময় রঙিন বিশ্লেষণ!

23
0

লিওনার্ডো দা ভিঞ্চির এক অদ্ভুত শিল্পকর্ম, মোনালিসার হাসি, এখন নতুন গবেষণা দ্বারা আরও রহস্যময় হয়েছে। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের একটি দল মোনালিসা ছবির রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে অস্তিত্ব প্রকাশ করেছে। এই গবেষণা থেকে পাওয়া যায়, মোনালিসার হাসিতে বিষাক্ত রঙের মিশ্রণ রয়েছে!

এই বিশেষ রঙিন মিশ্রণ ছবিতে কোনো কোনো উপাদানগুলি ছিলেন স্যাপোনিফায়েড তেল এবং প্লাম্বোনাক্রিট, এবং ছবির ভেতরে প্লাম্বোনাক্রিট এর একটি বিরল যৌগ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া, ছবিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে লেড মনোক্সাইড এবং সাদা সিসা ও সিসাযুক্ত সাদা রঙের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।

গবেষণা দলের নেতৃত্বে ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস-স্যাকলের বিজ্ঞানী ভিক্টর গঞ্জালেজ জানান, “লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ছবি আঁকার সময় সিসার সাদা রঞ্জকের পুরু স্তর দিয়ে ছবি আঁকতেন, এবং এতে লেড মনোক্সাইড ব্যবহার করেন।” তাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো লেড মনোক্সাইডের অক্ষত দানার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, এবং এটি তৈরি হতে ত্বক ও চুলের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতে পারে।

গবেষকদের কাছে এই প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে লেওনার্দো দা ভিঞ্চির রহস্যময় শিল্পকর্মের পেছনের গভীরতা বের হয়েছে। এই গবেষণা যা মোনালিসার হাসি নিয়ে নতুন দিক তোলে, তা হয়তো বোদ্ধাদের একটি নতুন বিশ্লেষণ প্রদান করতে সাহায্য করতে পারে।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি যে সময়ে ছবি আঁকতেন, সেই সময়ে প্যানেলে কাঠের ছবি আঁকা হতো এবং তারপরে রঙের স্তর দিয়ে ছবি আঁকতেন। তার রঙিন মিশ্রণে সিসা, লেড মনোক্সাইড এবং প্লাম্বোনাক্রিট সহ বিভিন্ন উপাদানের ব্যবহার হয়েছে। ছবির কোণ থেকে একটি ক্ষুদ্র নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ‘লাস্ট সাপার’ এর ওপরিতল থেকে ১৭টি মাইক্রোস্যাম্পল নেওয়া হয়েছে। এই মাইক্রোস্যাম্পলগুলির মাধ্যমে সিসা ও লেড মনোক্সাইডের অক্ষত দানা রহস্য প্রকাশ হয়েছে।

এই গবেষণা দ্বারা প্রদত্ত তথ্য দিয়ে আমরা লিওনার্দো দা ভিঞ্চির শিল্পকর্মের ভিন্ন দিক জানতে পারছি এবং সেই সময়ে মোনালিসার হাসির রহস্য তুলে ধরতে পারছি। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির সৃজনশীলতা, তার রঙিন কৌশল, এবং তার মাধ্যমে ছবি আঁকার বিশুদ্ধতা আমাদের পূর্বাবস্থানে নতুন প্রকাশ করেছে।

১৪৬৬ সালে, মাত্র ১৪ বছর বয়সে লেওনার্ডো দা ভিঞ্চি শিল্পী ভ্যারিচ্চিওর কাছে শিক্ষা নিতে গিয়ে শুরু করেন। তার শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজের মাধ্যমে তিনি অ্যালকেমি সম্পর্কে জানেন, যা তার ছবি আঁকার প্রকাশ্ঠলী হয়েছে। এই ছবির জীবনে নতুন দিক তোলা হোক, বোদ্ধাদের এটি নতুন বিশ্লেষণের দিকে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে এবং লিওনার্ডো দা ভিঞ্চির সৃজনশীলতা এবং রহস্যময় শিল্পকর্মের পেছনের গভীরতা তুলে ধরতে সাহায্য করতে পারে।